BidyasagarMiscellaneous 

উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ব্যক্তিত্ব বিদ্যাসাগর

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আজ বিদ্যাসাগরের মৃত্যু দিবস। মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে তেমন কোনও আয়োজন নেই করোনাকালে। সাম্প্রতিককালে তাঁর মূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। বিদ্যাসাগর-চর্চার আবহও সেভাবে দেখা যায় না। তাঁকে ঘিরে বিতর্ক সেকাল ও একালেও। বিধবা-বিবাহ প্রবর্তন এবং বাল্যবিবাহ রদ করার সময়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়। ছোটবেলায় তাঁর বর্ণপরিচয় দিয়েই আমাদের অক্ষর চেনা। অনেকের শৈশবের বড় পরিচিতি হল “বর্ণপরিচয়”। বেগুনি পাতার উপরে কালো রঙে লেখা সেই বইটা হয়ে ওঠে শৈশবের পরিচয়। ল্যাম্পপোস্টের আলোর নিচে দাঁড়িয়ে তাঁর পড়াশুনা।

এসব আমরা গুরুজনদের মুখেই শুনেছি। এখন কাল ও যুগের পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে অনেকটা। প্রবল বর্ষার এক রাতে দামোদর সাঁতরে পার হয়ে অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। নানা কথা ছড়িয়ে রয়েছে তাঁকে ঘিরে। মা-বাবা ও অভিভাবকদের মুখে এসব বড় একটা এখন শোনা যায় না। “বর্ণপরিচয়” ছিল একসময়ের একমাত্র সঙ্গী। বর্তমান সময়ে পড়াশোনার ব্যাপারটা কম্পিউটারের রপ্ত করলেও এখনও সরস্বতী পুজোয় হাতে খড়ি দেওয়ার প্রচলনটা কমবেশি রয়েছে। তা এখনও স্লেট-পেন্সিলেই করা হয়ে থাকে।

আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য কতটুকু রয়েছে সেসব উল্লেখ না করেই বলা যেতে পারে– শ্রীরামকৃষ্ণ আক্ষেপের সুরে জানিয়েছিলেন, বিদ্যাসাগরের পদধূলি কখনও দক্ষিণেশ্বরে না পড়ার জন্য। বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদ্যাসাগরকে “করুণার সিন্ধু” বলে চিহ্নিত করেছিলেন। পাশাপাশি “বঙ্গকূলচূড়া” বলেও সম্মানিত করেছেন। আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী বলে।

বিদ্যাসাগর উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ব্যক্তিত্ব ছিলেন এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। সমাজ সংস্কারক, শিশু ও স্ত্রী শিক্ষাচিন্তক, লেখক ও অনুবাদক হিসেবে চিন্তা-চেতনায় তিনি জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সময়েই সংস্কৃত কলেজ নবজীবনপ্রাপ্ত হয়। অন্যদিকে নর্মাল স্কুল, মডেল স্কুল ছাড়াও স্ত্রীশিক্ষা প্রসারের জন্য ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, উনিশ শতকে অনেক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত বিদ্যাসাগর উপাধি পেলেও “বিদ্যাসাগর” বলতে আমরা বীরসিংহ-এর ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বুঝে থাকি। তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছে “ঈশ্বর” শব্দটিও।

Related posts

Leave a Comment